বাংলাদেশ রেলওয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st জানুয়ারি ২০১৫

মহাপরিচালক এর বাণী

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট www.railway.gov.bd এ আপনাদের স্বাগতম। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েব সাইটটি শুধুমাত্র রেলওয়ের যাত্রী এবং রেলপথে মালামাল পরিবহনকারী জনসাধারণের জন্য তৈরী করা হয়নি, বরং বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং রেলওয়ের ব্যাপারে আগ্রহী জনসাধারণ, সামাজিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বর্ধিত কলেবরে তা সাজানো হয়েছে। আশাকরি, নতুন এ ওয়েবসাইটটি রেল সংক্রান্ত দৈনন্দিন তথ্যাদি দিয়ে আপনাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যেমন ট্রেন চলাচলের খবরাখবর, এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট ক্রয়, ট্রেনের ভাড়া ইত্যাদি এ ওয়েব পেজে প্রদর্শন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ ছাড়াও রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক তথ্যাদি এতে সন্নিবেশিত হয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে তুলনামূলকভাবে একটি ছোট (২৮৭৭.১০ কি:মি:) রেলওয়ে নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে ৬৫৯.৩৩ কি:মি: ব্রড গেজ, ১৮০৮.০৫ কি:মি: মিটার গেজ ও ৪০৯.৭২ কি:মি: ডুয়েল গেজ রেল লাইন বিদ্যমান। আকারে ছোট হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে এর জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থায় অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

১৮৬২ সালের ১৫ই নভেম্বর উপমহাদেশের এ অংশে রেলওয়ে তার গৌরবময় যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ রেলওয়ে উপমহাদেশের এ অংশে স্থাপিত রেলওয়ে নেটওয়ার্ক উত্তরাধিকার সূ্ত্রে প্রাপ্ত হয়েছে, যা কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে স্থাপিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে রক্তস্নাত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে তার নেটওয়ার্ক পুনর্বিন্যস্ত করে সকল জেলা সদরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উপর গুরুত্ব আরোপ করে আসছে এবং এ লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করছে।

উপমহাদেশের সমসাময়িক পরিবহন খাতের  উন্নয়নের গতির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্মানিত যাত্রীসাধারণ, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এবং সরকারের পরিবহন সংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে রেলওয়েকে সাজানোর চেষ্ট করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সর্বোপরি দেশে একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুলভ সরকারী গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনের সিঙ্গেল লাইন অংশে ডাবল লাইন নির্মাণ, পুরাতন জরাজীর্ণ ট্র্যাক পুনর্বাসন, বন্ধ করে দেওয়া রেল লাইন পুনঃ চালুকরণ, নতুন রেল লাইন নির্মাণ, নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহ, সিগন্যালিং সিস্টেম আধুনিকায়ন ইত্যাদি কাজ বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের সময় গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত তথ্যাদি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে IVR (Interactive Voice Response) পদ্ধতিতে গ্রাহকগণকে সরবরাহ করে আসছে। রেলওয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা যথা Pay roll, Asset Management, Financial Accounting, Inventory Control ইত্যাদি সয়ংক্রিয় ও কম্পিউটারাইজড করার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে, যা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বিনির্মাণে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অভিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সকল অংশে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতঃ নিরাপদ, দ্রুত ও সুলভ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এ উদ্দেশ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সর্বোপরি বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধ ও একটি পরিবেশ দূষণমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে পরিবেশ বান্ধব, জ্বালানী সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও আমরা আগ্রহী।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েব সাইট পরিদর্শনের  জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ হতে আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ। ওয়েব সাইটটি আপনাদের দৈনন্দিন তথ্য চাহিদা পুরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

 

ধন্যবাদান্তে-

 

মোঃ আমজাদ হোসেন

মহাপরিচালক

বাংলাদেশ রেলওয়ে।


Share with :